
লেখক: ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন, এমবিবিএস — শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক
ভূমিকা
একজন শিশু চিকিৎসক হিসেবে চেম্বারে প্রতিদিন যত মা-বাবা আসেন, তাঁদের বেশিরভাগেরই দুশ্চিন্তার নাম — শিশুর জ্বর। অনেক মাকে দেখি, রাত জেগে বারবার কপালে হাত দিচ্ছেন, থার্মোমিটারে সংখ্যাটা একটু বেশি দেখলেই বুকটা কেঁপে উঠছে। এটা খুব স্বাভাবিক — সন্তান একটু কষ্ট পেলে কোন মায়ের মন শান্ত থাকে বলুন?
তবে একটা কথা শুরুতেই বলে রাখি, আর কথাটা মন দিয়ে শুনুন — জ্বর নিজে কিন্তু কোনো অসুখ নয়। জ্বর হলো অসুখের একটা লক্ষণ মাত্র। শরীরে কোনো জীবাণু ঢুকলে তার সঙ্গে লড়াই করার জন্যই শরীর নিজে থেকে গরম হয়ে ওঠে। অর্থাৎ জ্বর মানে আপনার শিশুর শরীর কাজ করছে, লড়ছে। তাই থার্মোমিটারে যত বড় সংখ্যাই উঠুক, ভয় পেয়ে ঘাবড়ে যাওয়ার আগে দেখুন শিশুটা কেমন আছে — সেটাই আসল।
এই লেখায় আমি সহজ করে বলার চেষ্টা করব — জ্বর কেন হয়, কীভাবে ঠিকভাবে জ্বর মাপবেন, বাড়িতে কী যত্ন নেবেন, কোন ওষুধ কতটুকু দেবেন, খিঁচুনি হলে কী করবেন, আর সবচেয়ে জরুরি — কখন দেরি না করে ডাক্তারের কাছে ছুটবেন। উদ্দেশ্য একটাই: জ্বর দেখে যেন আপনি আর ভয় না পান, বরং বুঝেশুনে ঠান্ডা মাথায় ঠিক কাজটা করতে পারেন।
এই লেখায় যা যা আছে
১. শিশুর জ্বর আসলে কী? কত ডিগ্রি হলে জ্বর বলা হয়?
সুস্থ থাকলে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত ৩৬.৫ থেকে ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। দিনের বিভিন্ন সময়ে এটা একটু-আধটু ওঠানামা করে — বিকেলের দিকে সাধারণত একটু বাড়ে। এই তাপমাত্রা যখন ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (বা ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে যায়, তখনই আমরা বলি জ্বর এসেছে।
আগেই বলেছি, জ্বরকে শত্রু ভাববেন না। শরীরে যখন ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার মতো জীবাণু ঢোকে, তখন মস্তিষ্ক থেকে নির্দেশ আসে শরীরটাকে একটু গরম করে ফেলার। কারণ গরম পরিবেশে জীবাণু সহজে বাড়তে পারে না, আর শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী সৈনিকরাও তখন আরও ভালোভাবে কাজ করে। তাই জ্বর আসলে শরীরের একটা নিজেকে বাঁচানোর উপায় — শত্রু নয়, বরং বন্ধু বলা যায়।
আরেকটা ভুল ধারণা অনেক মায়ের মধ্যে দেখি — জ্বর যত বেশি, অসুখ তত মারাত্মক। আসলে কিন্তু তা নয়। সাধারণ সর্দি-কাশিতেও জ্বর ১০৩-১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে যেতে পারে, আবার কোনো কোনো গুরুতর অসুখে জ্বর হয়তো সামান্যই থাকে। তাই সংখ্যা দেখে ভয় না পেয়ে বরং খেয়াল করুন — শিশু খেলছে কি না, খাচ্ছে কি না, ডাকলে সাড়া দিচ্ছে কি না, হাসছে কি না। এই জিনিসগুলোই আসলে বলে দেয় শিশুটা কেমন আছে।
২. শিশুর জ্বর কীভাবে মাপবেন? কোন থার্মোমিটার ভালো?
আজকাল নানা রকম থার্মোমিটার পাওয়া যায় — পুরনো দিনের পারদের থার্মোমিটার, ডিজিটাল থার্মোমিটার, আবার কপালে বা কানে ধরে মাপার থার্মোমিটারও আছে। আমার পরামর্শ হলো, পারদের থার্মোমিটার এখন আর ব্যবহার না করাই ভালো — ভেঙে গেলে ভেতরের পারদ শিশুর জন্য বিপজ্জনক, আর সময়ও বেশি লাগে। এর বদলে ডিজিটাল থার্মোমিটার ব্যবহার করুন — দাম কম, মাপা সহজ, ফলও পাওয়া যায় তাড়াতাড়ি। কপালে-কানে মাপার থার্মোমিটারও ব্যবহার করা যায়, তবে দাম একটু বেশি আর ঠিকভাবে না ধরলে ভুল রিডিং আসতে পারে।
কোথায় মাপছেন সেটার ওপরও রিডিং একটু নির্ভর করে। বগলের নিচে মাপা সবচেয়ে সহজ আর নিরাপদ, বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের জন্য — তবে বগলে মাপলে আসল তাপমাত্রার চেয়ে রিডিং একটুখানি (প্রায় আধা ডিগ্রি) কম আসে, এটা মাথায় রাখবেন। মুখে মেপে একটু নিখুঁত রিডিং পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু ছোট বাচ্চারা তো থার্মোমিটার মুখে ধরে রাখতে পারে না, তাই এটা বড় বাচ্চাদের (পাঁচ-ছয় বছরের বেশি) জন্য। ছোট শিশুদের বেলায় বগলে মাপাটাই আমি সবচেয়ে ভালো বলব।
অনেক মা শুধু হাত দিয়ে কপাল ছুঁয়ে বুঝতে চান জ্বর আছে কি না। এতে একটা আন্দাজ পাওয়া যায় বটে, কিন্তু আসল তাপমাত্রা কখনোই বোঝা যায় না — কারণ আপনার হাত গরম না ঠান্ডা, ঘরটা গরম কি না, শিশুর গায়ে ঘাম আছে কি না, এসবের ওপর অনুভূতিটা বদলে যায়। ওষুধ দিতে হবে কি না, ডাক্তারের কাছে যেতে হবে কি না — এসব সিদ্ধান্ত নির্ভর করে সঠিক সংখ্যার ওপর। তাই আন্দাজে না গিয়ে থার্মোমিটারে মেপে নেওয়াই ভালো। আর মাপার সময় ছোট্ট দুটো জিনিস খেয়াল রাখবেন — গোসলের ঠিক পরে বা মোটা কাপড়ে জড়ানো অবস্থায় মাপবেন না, এতে রিডিং বেশি আসে; আর ডিজিটাল থার্মোমিটার “বিপ” শব্দ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন, তার আগে সরিয়ে ফেললে ভুল রিডিং আসে।
৩. শিশুর জ্বর কেন হয়?
শিশুর জ্বরের সবচেয়ে বেশি যে কারণটা আমি চেম্বারে দেখি, তা হলো ভাইরাসের সংক্রমণ — সাধারণ সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, কিংবা ভাইরাল জ্বর। ছোট বাচ্চাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা তো তখনো গড়ে উঠছে, তাই বছরে কয়েকবার এমন জ্বর হওয়া একদম স্বাভাবিক — এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। এই ধরনের জ্বর বেশিরভাগ সময় তিন-চার দিনের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়।
টিকা দেওয়ার পরও অনেক সময় শিশুর গা একটু গরম হয় — এটা নিয়েও দুশ্চিন্তা করবেন না। টিকা শরীরকে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই শিখিয়ে দেয়, আর সেই শেখার সময়েই হালকা জ্বর আসতে পারে। বরং বলা যায়, এতে বোঝা যাচ্ছে টিকাটা কাজ করছে। এই জ্বর সাধারণত এক-দুই দিনেই চলে যায়।
আমাদের দেশের আবহাওয়ার কারণে ঋতুভেদে কিছু অসুখের কথা আলাদা করে মাথায় রাখতে হয়। গরম আর বর্ষার সময় মশা থেকে ডেঙ্গু, আর দূষিত পানি-খাবার থেকে টাইফয়েড বেড়ে যায় — এই সময়টায় জ্বর হলে একটু বাড়তি সতর্ক থাকবেন। আবার শীতকালে ছোট বাচ্চাদের নিউমোনিয়া আর ঠান্ডা-কাশির সমস্যা বেশি হয়। এছাড়া কানের সংক্রমণ, গলার সংক্রমণ বা প্রস্রাবের সংক্রমণ থেকেও জ্বর আসতে পারে। জ্বরের সঙ্গে যদি আলাদা কোনো লক্ষণ থাকে — যেমন কানে ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া — তাহলে ডাক্তার দেখানো দরকার।
আর একটা কথা প্রায় সব মা-ই বলেন — “দাঁত উঠছে, তাই জ্বর”। কথাটা পুরোপুরি ঠিক নয়। দাঁত ওঠার সময় শিশুর মাড়িতে একটু অস্বস্তি হয়, লালা বেশি পড়ে, একটু খিটখিটে হয়ে যায় — এটুকু সত্যি। কিন্তু দাঁত ওঠার কারণে সত্যিকারের জ্বর (মানে ১০০.৪ ডিগ্রির বেশি) হয় না। তাই “দাঁত উঠছে বলেই জ্বর” ভেবে নিশ্চিন্ত থাকবেন না — কারণ ভেতরে হয়তো অন্য কোনো সংক্রমণ লুকিয়ে আছে, যেটা এড়িয়ে গেলে বিপদ হতে পারে।
৪. শিশুর জ্বর নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো কী কী?
আমাদের সমাজে জ্বর নিয়ে কিছু পুরনো ধারণা চলে আসছে, যেগুলো আসলে উপকারের বদলে ক্ষতি করে। এতে মায়েদের কোনো দোষ নেই — বড়দের কাছ থেকেই তো আমরা এসব শিখি। কিন্তু কয়েকটা কথা জানা থাকলে আপনি অনেক ভুল এড়াতে পারবেন।
প্রথমটা হলো — “জ্বর হলে গরম কাঁথা-কম্বল দিয়ে মুড়ে দাও, ঘাম দিয়ে জ্বর নেমে যাবে।” আসলে হয় ঠিক উল্টো। গরম কাপড়ে মুড়ে রাখলে শরীরের তাপ বেরোতে পারে না, জ্বর আরও বেড়ে যায়, শিশুর কষ্টও বাড়ে। এমনকি হঠাৎ জ্বর বেড়ে খিঁচুনি পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। তাই জ্বর হলে বরং শিশুকে পাতলা, ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরান, ঘরে বাতাস চলতে দিন।
দ্বিতীয়টা — “জ্বর যেভাবেই হোক এক্ষুনি নামাতে হবে।” এই তাড়াহুড়োয় অনেকে ঠান্ডা পানি, এমনকি বরফ পানি দিয়ে গা মুছে দেন, কেউ কেউ আবার শরীরে অ্যালকোহল বা স্পিরিটও লাগিয়ে দেন। এগুলো করবেন না। ঠান্ডা পানিতে শরীর কেঁপে উঠে উল্টো জ্বর বাড়িয়ে দেয়, আর অ্যালকোহল শিশুর নরম ত্বক দিয়ে শরীরে ঢুকে বিষক্রিয়া পর্যন্ত ঘটাতে পারে। মনে রাখবেন, আমাদের লক্ষ্য থার্মোমিটারের সংখ্যা শূন্যে নামানো নয় — শিশুকে আরামে রাখা।
তৃতীয়টা নিয়ে একটু জোর দিয়েই বলব — জ্বর হলে ঝাড়ফুঁক, পানিপড়া বা তাবিজের পেছনে সময় নষ্ট করবেন না। মন থেকে ভরসা পাওয়ার জন্য অনেকে এসব করেন, সেটা বুঝি। কিন্তু এতে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো — দেরি হয়ে যাওয়া। ডেঙ্গু বা নিউমোনিয়ার মতো অসুখে কয়েক ঘণ্টা দেরিও শিশুকে বড় বিপদে ফেলতে পারে। জ্বরের আসল কারণ ধরতে আর সঠিক চিকিৎসা দিতে পারেন কেবল একজন ডাক্তার।
আর সবশেষে — ডাক্তার না দেখিয়ে দোকান থেকে নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়াবেন না। শিশুর জ্বরের বেশিরভাগই তো ভাইরাসের কারণে, আর অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের ওপর কোনো কাজই করে না। উল্টো অকারণে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে শিশুর পেটের ভালো জীবাণু নষ্ট হয়, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, আর ভবিষ্যতে সত্যিকারের দরকারের সময় ওষুধটা আর কাজ করে না। কখন অ্যান্টিবায়োটিক লাগবে, সেটা ডাক্তারই ঠিক করবেন।
৫. শিশুর জ্বর হলে বাড়িতে কী করবেন?
এবার আসি সবচেয়ে দরকারি কথায় — জ্বর হলে বাড়িতে আপনি কী করবেন। মনে রাখবেন, যত্নের আসল উদ্দেশ্য দুটো: শিশুকে আরামে রাখা, আর শরীরে যেন পানির ঘাটতি না হয়। এই দুটো ঠিক রাখলে বাকিটা অনেক সহজ।
সবার আগে শিশুকে পাতলা, নরম সুতির কাপড় পরান। জ্বরে মোটা কাপড়ে জড়িয়ে রাখলে তাপ বেরোতে পারে না, তাই একটা-দুটো পাতলা কাপড়ই যথেষ্ট। ঘরের জানালা খুলে দিন যেন বাতাস চলে, তবে ফ্যান বা এসির বাতাস যেন সরাসরি গায়ে না লাগে। ঘর খুব ঠান্ডা করার দরকার নেই, স্বাভাবিক আরামদায়ক থাকলেই হলো।
জ্বর যদি বেশি হয় (ধরুন ১০৩ ডিগ্রির ওপরে) আর শিশু অস্বস্তিতে থাকে, তাহলে কুসুম গরম পানি দিয়ে গা মুছে দিতে পারেন। খেয়াল রাখবেন — পানি যেন হালকা গরম হয়, ঠান্ডা বা বরফ পানি একদম নয়। একটা নরম কাপড় ভিজিয়ে হালকা হাতে কপাল, ঘাড়, বগল আর কুঁচকির দিকটা মুছে দিন — এই জায়গাগুলো দিয়ে তাপ তাড়াতাড়ি বেরোয়। জোরে ঘষবেন না, আলতো করে মুছবেন। শিশু যদি কেঁপে ওঠে বা কষ্ট পায়, সঙ্গে সঙ্গে থামিয়ে দিন।
জ্বরের সময় শরীর থেকে পানি বেশি বেরিয়ে যায়, তাই শিশুকে বারবার তরল খাওয়াতে থাকুন — এটাই সবচেয়ে জরুরি। যে শিশু বুকের দুধ খায়, তাকে আগের চেয়ে ঘন ঘন বুকের দুধ দিন। একটু বড় শিশুকে ফুটানো পানি, খাবার স্যালাইন, ফলের রস বা পাতলা স্যুপ দিতে পারেন। শিশু ঠিকঠাক প্রস্রাব করছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখলেই বুঝবেন শরীরে পানির ঘাটতি হচ্ছে কি না।
খাওয়া নিয়ে জোরাজুরি করবেন না। জ্বরে মুখে রুচি থাকে না, খেতে চায় না — এটা স্বাভাবিক। একবারে বেশি না খাইয়ে বরং অল্প অল্প করে বারবার সহজপাচ্য খাবার দিন। তবে বুকের দুধ কখনো বন্ধ করবেন না — এই সময় ওটাই শিশুর সবচেয়ে বড় শক্তি আর পানির উৎস। শিশুকে বিশ্রাম নিতে দিন, আর চোখ রাখুন সে কেমন আচরণ করছে তার দিকে — এটাই আপনাকে বলে দেবে সব ঠিক আছে, নাকি ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সময় হয়েছে।
৬. শিশুর জ্বরে কোন ওষুধ, কতটুকু দেবেন?
জ্বর কমানোর সবচেয়ে নিরাপদ আর সহজলভ্য ওষুধ হলো প্যারাসিটামল (বাজারে নাপা নামেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত)। কতটুকু দেবেন, সেটা নির্ভর করে শিশুর ওজনের ওপর — শরীরের প্রতি কেজির জন্য ১০ থেকে ১৫ মিলিগ্রাম, দরকার হলে প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পর পর। তবে খেয়াল রাখবেন, ২৪ ঘণ্টায় ৪ বারের বেশি নয়, আর দুই ডোজের মাঝে অন্তত ৪ ঘণ্টা যেন থাকে।
সাধারণত সিরাপ খাওয়ানোই সবচেয়ে সহজ। কিন্তু শিশু যদি বারবার বমি করে বা মুখে কিছুতেই নিতে না চায়, তাহলে সাপোজিটরি (পায়ুপথে দেওয়ার ওষুধ) দেওয়া যেতে পারে — এখানেও ওজন অনুযায়ীই মাত্রা ঠিক করতে হয়।
একটা কথা বিশেষভাবে বলে রাখি — বর্ষা বা তার পরের সময়টায়, যখন ডেঙ্গুর ভয় থাকে, তখন জ্বরের কারণ নিশ্চিত না জানা পর্যন্ত আইবুপ্রোফেন জাতীয় ব্যথা-জ্বরের ওষুধ দেবেন না। কারণ ডেঙ্গুতে শরীরে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে, আর এই ওষুধ সেই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এই সময় শুধু প্যারাসিটামলই নিরাপদ। আর অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ তো শিশুকে কখনোই দেবেন না — এতে শিশুদের একটা বিরল কিন্তু মারাত্মক ও প্রাণঘাতী সমস্যা হতে পারে, যা লিভার আর মস্তিষ্ককে ভীষণভাবে ক্ষতি করে।
ওষুধ দিতে গিয়ে মায়েরা কয়েকটা ভুল প্রায়ই করে ফেলেন, একটু সাবধান থাকবেন। জ্বর তাড়াতাড়ি না কমলে সময়ের আগেই আবার ওষুধ দিয়ে ফেলা, একসঙ্গে দুই রকম জ্বরের ওষুধ খাওয়ানো, কিংবা সর্দি-কাশির সিরাপের সঙ্গে আলাদা করে প্যারাসিটামলও দিয়ে দেওয়া — এতে না বুঝেই শিশুর শরীরে বেশি ওষুধ চলে যায়। তাই যেকোনো ওষুধ দেওয়ার আগে বোতলের গায়ে লেখা দেখে নিন, তাতে প্যারাসিটামল আছে কি না।
আর ওষুধ মাপার ব্যাপারটাও হালকাভাবে নেবেন না। ঘরের চা-চামচ একেকটা একেক মাপের হয়, তাই ওটা দিয়ে মাপা ঠিক হয় না। ওষুধের সঙ্গে যে মাপার চামচ, কাপ বা সিরিঞ্জ দেওয়া থাকে, সেটা দিয়েই মাপুন। মাত্রা নিয়ে সন্দেহ থাকলে আন্দাজে না দিয়ে ডাক্তারের কাছ থেকে শিশুর ওজন অনুযায়ী সঠিক মাত্রা জেনে নিন।
৭. জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে কী করবেন?
জ্বরের সঙ্গে হঠাৎ শিশুর খিঁচুনি দেখলে যেকোনো মায়ের হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায় — এমন ভয়ংকর মুহূর্ত আর হয় না। আমি বুঝি। তাই আগেভাগেই জেনে রাখুন, যাতে সেই মুহূর্তে ভেঙে না পড়ে ঠিক কাজটা করতে পারেন।
এই ধরনের খিঁচুনি সাধারণত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী বাচ্চাদের হয়। একটা কথা মনে রাখবেন, খিঁচুনিটা জ্বর কত বেশি তার ওপর তেমন নির্ভর করে না — বরং জ্বর কত তাড়াতাড়ি বেড়েছে, সেটার ওপর করে। ছোট বাচ্চার স্নায়ু তো তখনো পুরো তৈরি হয়নি, তাই হঠাৎ তাপ বেড়ে গেলে শরীর এভাবে কেঁপে ওঠে। দেখতে যতই ভয়ংকর লাগুক, একটা কথা জানলে অনেকটা শান্তি পাবেন — সাধারণ এই জ্বরের খিঁচুনিতে শিশুর মস্তিষ্কের কোনো ক্ষতি হয় না, ভবিষ্যতে বুদ্ধি বা বেড়ে ওঠাতেও কোনো সমস্যা হয় না।
খিঁচুনি শুরু হলে সবচেয়ে বড় কাজ — নিজে শান্ত থাকা আর শিশুকে নিরাপদে রাখা। প্রথমেই শিশুকে একদিকে কাত করে শুইয়ে দিন, যাতে মুখের লালা বা বমি গলায় আটকে না যায়। আশপাশে শক্ত বা ধারালো কিছু থাকলে সরিয়ে ফেলুন। মুখের ভেতরে চামচ, আঙুল বা পানি — কিচ্ছু দেবেন না, এতে বরং হিতে বিপরীত হয়। হাত-পা চেপে ধরে খিঁচুনি থামানোর চেষ্টাও করবেন না — এটা নিজে থেকেই থেমে যাবে। পারলে খেয়াল রাখুন খিঁচুনিটা কখন শুরু হলো, কতক্ষণ থাকল — এই তথ্যটা পরে ডাক্তারের অনেক কাজে লাগবে।
আমাদের সমাজে খিঁচুনি নিয়ে কিছু চর্চা আছে, যেগুলো একদমই করবেন না। “জিভ কেটে যাবে” বা “জিভ গিলে ফেলবে” — এই ভয়ে মুখে চামচ-আঙুল ঢোকানো আসলে বিপজ্জনক, কারণ কেউ নিজের জিভ গিলে ফেলতে পারে না; উল্টো দাঁত ভাঙতে পারে বা আপনার আঙুলে কামড় লাগতে পারে। নাকের কাছে পেঁয়াজ বা জুতা ধরা, গায়ে ঠান্ডা পানি ঢালা, শরীর ঝাঁকানো — এসবেরও কোনো দরকার নেই, বরং ক্ষতি হতে পারে।
তবে কিছু অবস্থায় এক মুহূর্তও দেরি না করে হাসপাতালে ছুটবেন — খিঁচুনি যদি পাঁচ মিনিটের বেশি চলে, একই জ্বরে যদি বারবার খিঁচুনি হয়, খিঁচুনি থামার পরও যদি শিশু জ্ঞান না ফেরে বা ঠিকমতো সাড়া না দেয়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কিংবা ঠোঁট-মুখ নীল হয়ে যায়। এছাড়া জীবনে এই প্রথমবার খিঁচুনি হলে, ছয় মাসের কম বা পাঁচ বছরের বেশি বয়সে হলে, অথবা খিঁচুনির পর শরীরের একদিক দুর্বল হয়ে থাকলে — অবশ্যই ডাক্তার দেখাবেন, কারণ তখন ব্যাপারটা সাধারণ জ্বরের খিঁচুনির বাইরে চলে যায়।
৮. নবজাতক ও ৩ মাসের কম বয়সী শিশুর জ্বর হলে কী করবেন?
তিন মাসের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে একটা কথা কড়াভাবে বলে রাখি — এই বয়সে গায়ে জ্বর (৩৮ ডিগ্রি বা ১০০.৪ ডিগ্রির বেশি) এলে সেটাকে সাধারণ জ্বর ভেবে বাড়িতে বসে থাকবেন না। এটা একটা জরুরি অবস্থা। রাত হোক বা দিন, শিশু দেখতে যতই ভালো লাগুক, দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে নিয়ে যাবেন।
এত সাবধানতার কারণ আছে। এইটুকু বাচ্চার শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা তো পুরো তৈরি হয়নি। বড়দের শরীর যেভাবে রোগটাকে এক জায়গায় আটকে রাখতে পারে, স্পষ্ট লক্ষণ দেখায় — ছোট্ট শিশুর শরীর তা পারে না। ফলে খুব গুরুতর কোনো সংক্রমণও এই বয়সে হয়তো শুধু জ্বর ছাড়া আর কিছু না দেখিয়েই ভেতরে ভেতরে বাড়তে থাকে। আর এই বয়সে অবস্থা খারাপ হয় খুব তাড়াতাড়ি — সকালে যে বাচ্চা মোটামুটি ভালো ছিল, বিকেলেই সে অনেক অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।
বড় বাচ্চার বেলায় আমরা বলি না — খেলছে কি না, সাড়া দিচ্ছে কি না দেখুন? এই একদম ছোট শিশুর বেলায় সেই নিয়মটা খাটে না। বাইরে থেকে শান্ত বা ঘুমন্ত দেখালেও ভেতরে গুরুতর কিছু ঘটতে পারে। তাই “আর একটু দেখি” — এই ভাবনাটা এই বয়সে বিপজ্জনক। দুধ খেতে না চাওয়া, বেশি ঝিমিয়ে থাকা, কান্নার সুর বদলে যাওয়া — এই ছোট ছোট জিনিসও এই বয়সে গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।
আর এই বয়সে নিজে থেকে প্যারাসিটামল বা অন্য কোনো ওষুধ দিয়ে জ্বর সামলানোর চেষ্টা করবেন না। ওষুধে জ্বর একটু কমে গেলে শিশুকে হয়তো ভালো মনে হবে, কিন্তু ভেতরের আসল সমস্যাটা ধরা পড়তে দেরি হয়ে যায়। এই বয়সে জ্বরের কারণ বুঝতে ডাক্তারকে হয়তো রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা, দরকার হলে আরও কিছু পরীক্ষা করাতে হয় — যা কেবল হাসপাতালেই সম্ভব। তাই এই বয়সে আপনার কাজ একটাই — দ্রুত ডাক্তারের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
৯. শিশুর জ্বরে কখন ডাক্তার দেখাবেন? (৮টি বিপদচিহ্ন চিনে রাখুন)
বেশিরভাগ জ্বর বাড়ির যত্নেই সেরে যায়, এটা ঠিক। কিন্তু কিছু লক্ষণ আছে, যেগুলো দেখলে আর অপেক্ষা না করে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। জ্বর কত ডিগ্রি সেটা যাই হোক, নিচের যেকোনো একটা দেখলেই সতর্ক হয়ে যান:
- শিশু নেতিয়ে পড়ছে, ডাকলে ঠিকমতো সাড়া দিচ্ছে না — খেলাধুলা তো দূরের কথা, চোখ মেলে তাকাতেও কষ্ট, কোনো কিছুতেই আগ্রহ নেই।
- শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে — খুব দ্রুত শ্বাস নিচ্ছে, শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের নিচটা ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে, বা নাক ফুলিয়ে ফুলিয়ে শ্বাস নিচ্ছে।
- বারবার বমি করছে, কিছুই খেতে-পান করতে পারছে না — এতে তাড়াতাড়ি শরীরে পানির ঘাটতি হয়ে যায়।
- পানিশূন্যতার লক্ষণ — কয়েক ঘণ্টা প্রস্রাব হচ্ছে না বা খুব কম হচ্ছে, চোখ বসে গেছে, ঠোঁট-জিভ শুকিয়ে গেছে, কাঁদলেও চোখে পানি আসছে না।
- গায়ে অস্বাভাবিক দানা বা লালচে-বেগুনি ছোপ — একটা স্বচ্ছ কাচের গ্লাস দিয়ে চেপে ধরার পরও যদি দাগটা মিলিয়ে না যায়, সেটা জরুরি বিপদের সংকেত।
- খিঁচুনি — জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলেই ডাক্তার দেখাতে হবে।
- তিন দিনের বেশি জ্বর কমছে না, অথবা ওষুধেও জ্বর নামছে না বা বারবার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
- ডেঙ্গুর বিপদ-লক্ষণ — পেটে খুব ব্যথা, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্ত পড়া, কালো পায়খানা, গায়ে লালচে ছোপ, কিংবা জ্বর হঠাৎ কমে যাওয়ার পরও শিশু আরও নিস্তেজ হয়ে পড়া। বর্ষার সময় এই লক্ষণগুলোয় বাড়তি সতর্ক থাকবেন।
এর মধ্যে একটা লক্ষণ দেখলেও ঘরে বসে ভালো হওয়ার অপেক্ষা করবেন না — সঙ্গে সঙ্গে কাছের ডাক্তার বা হাসপাতালে যান। মনে সন্দেহ হলে দেরি না করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
১০. শিশুর জ্বরে কি অ্যান্টিবায়োটিক দরকার?
শিশুর জ্বর হলেই অনেক বাবা-মা ভাবেন, অ্যান্টিবায়োটিক না দিলে বুঝি সারবে না। কিন্তু আসল কথা হলো — শিশুর জ্বরের বেশিরভাগই হয় ভাইরাসের কারণে, আর অ্যান্টিবায়োটিক শুধু ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, ভাইরাসের ওপর কিছুই করতে পারে না। তাই সাধারণ সর্দি-কাশি বা ভাইরাল জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে জ্বর সারে না, শুধু শুধু দেরি হয়।
অকারণে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে কিছু ক্ষতিও হয় — পেটের ভালো জীবাণু নষ্ট হয়, পাতলা পায়খানা বা অ্যালার্জি হতে পারে। কিন্তু এর চেয়েও বড় ক্ষতিটা টের পাওয়া যায় অনেক পরে। বারবার অকারণে খেলে জীবাণুগুলো ওই ওষুধটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখে যায়, ওষুধ আর তাদের ওপর কাজ করে না। তখন সত্যিই যখন গুরুতর কোনো সংক্রমণ হয়, দেখা যায় চেনা অ্যান্টিবায়োটিকও আর কাজ করছে না। এটা শুধু একটা শিশুর সমস্যা নয়, গোটা সমাজের সমস্যা।
ডাক্তার অনেক সময় জ্বরের কারণ নিশ্চিত হতে রক্ত বা প্রস্রাব পরীক্ষা করতে বলেন — এটা কিন্তু অযথা খরচ বা সময় নষ্ট নয়। জ্বরটা ভাইরাসের নাকি ব্যাকটেরিয়ার, সেটা শুধু বাইরে থেকে দেখে সব সময় বোঝা যায় না। পরীক্ষা করলে অকারণে অ্যান্টিবায়োটিক এড়ানো যায়, আবার সত্যিকারের দরকার থাকলে সেটাও ধরা পড়ে।
আর ডাক্তার যদি অ্যান্টিবায়োটিক দেন, তাহলে জ্বর দু-তিন দিনে কমে গেলেও পুরো কোর্সটা শেষ করবেন। মাঝপথে বন্ধ করে দিলে দুর্বল হয়ে যাওয়া জীবাণু পুরোপুরি মরে না, শরীরে থেকে যায়, পরে আরও শক্তি নিয়ে ফিরে আসতে পারে। তাই ডাক্তারের কথামতো পুরো কোর্স শেষ করাটাই নিরাপদ।
শেষ কথা
সবশেষে একজন শিশু চিকিৎসক হিসেবে একটাই কথা বলব — জ্বর দেখে ভয় পাবেন না। জ্বর কোনো শত্রু নয়, এটা শরীরের নিজেকে বাঁচানোর একটা উপায়। থার্মোমিটারে যত বড় সংখ্যাই উঠুক, ঘাবড়ে না গিয়ে দেখুন আপনার শিশুটা কেমন আছে — খেলছে কি না, খাচ্ছে কি না, সাড়া দিচ্ছে কি না। এই দেখাটাই সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি সত্যি কথা বলে।
তবে শান্ত থাকা মানে অসতর্ক থাকা নয়। বিপদের লক্ষণগুলো — নেতিয়ে পড়া, শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, পানিশূন্যতা, গায়ে অস্বাভাবিক দাগ, খিঁচুনি, বা তিন দিনেও জ্বর না কমা — মনে রাখবেন। এর একটাও দেখলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যাবেন। মনে খটকা লাগলে জিজ্ঞেস করে নেওয়াটা কখনোই বোকামি নয়।
একজন মায়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ভয় নয় — সঠিক জ্ঞান। প্রতিবেশীর পরামর্শ বা পুরনো ধারণার পেছনে না ছুটে যখন আপনি জানবেন কোনটা স্বাভাবিক আর কখন সত্যিই ভাবনার কারণ আছে, তখন অনেক শান্ত মনে, অনেক ভরসা নিয়ে আপনি সন্তানের পাশে দাঁড়াতে পারবেন। আপনার এই ভরসা আর যত্নই আপনার সন্তানের সুস্থ হয়ে ওঠার সবচেয়ে বড় শক্তি।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
শিশুর জ্বর কত হলে ডাক্তার দেখাতে হবে?
জ্বরের সংখ্যার চেয়ে শিশুর অবস্থা বেশি জরুরি। তবে ৩ মাসের কম বয়সী শিশুর জ্বর ১০০.৪°F (৩৮°C) বা তার বেশি হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখাবেন। যেকোনো বয়সে জ্বর ৩ দিনের বেশি থাকলে, বা নেতিয়ে পড়া, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনির মতো বিপদচিহ্ন দেখা দিলে দেরি করবেন না।
জ্বর হলে কি শিশুকে গোসল করানো যাবে?
ঠান্ডা পানিতে গোসল একদম নয়। শিশু আরাম পেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে গা মুছিয়ে দিতে পারেন বা দ্রুত গোসল করাতে পারেন। শিশু কেঁপে উঠলে বা কষ্ট পেলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করবেন।
দাঁত উঠলে কি শিশুর জ্বর হয়?
না। দাঁত ওঠার সময় মাড়িতে অস্বস্তি, বেশি লালা পড়া বা হালকা গা-গরম ভাব হতে পারে, কিন্তু সত্যিকারের জ্বর (১০০.৪°F এর বেশি) হয় না। জ্বর এলে ধরে নিতে হবে অন্য কোনো কারণ আছে।
শিশুকে প্যারাসিটামল কতক্ষণ পর পর দেওয়া যায়?
শিশুর ওজন অনুযায়ী প্রতি কেজিতে ১০-১৫ মিলিগ্রাম করে, প্রতি ৪-৬ ঘণ্টা পর পর দেওয়া যায়। তবে ২৪ ঘণ্টায় ৪ বারের বেশি নয়, আর দুই ডোজের মাঝে অন্তত ৪ ঘণ্টা বিরতি রাখতে হবে।
জ্বরের সময় শিশুকে কী খাওয়াব?
বুকের দুধ খাওয়া শিশুকে আগের চেয়ে ঘন ঘন বুকের দুধ দিন। বড় শিশুকে পানি, খাবার স্যালাইন, ফলের রস বা পাতলা স্যুপ দিন। খাবারে জোর না করে অল্প অল্প করে বারবার সহজপাচ্য খাবার দিন।
জ্বর হলে কি কাঁথা-কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখা উচিত?
না, একদম নয়। মোটা কাপড়ে ঢাকলে শরীরের তাপ বেরোতে পারে না, জ্বর আরও বেড়ে যায়, খিঁচুনির ঝুঁকিও বাড়ে। জ্বরে পাতলা সুতির কাপড় পরানোই সঠিক নিয়ম।
⚕️ চিকিৎসা সংক্রান্ত দাবিত্যাগ (Disclaimer)
এই লেখাটি শুধুমাত্র সচেতনতা ও সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি; এটি কোনো চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। আপনার শিশুর নির্দিষ্ট কোনো সমস্যা হলে সব সময় একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।
তথ্যসূত্র ও আরও পড়ুন
এই লেখার তথ্য নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শিশুর জ্বর নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে নিচের নির্ভরযোগ্য উৎসগুলো দেখতে পারেন:
- American Academy of Pediatrics (HealthyChildren.org) — শিশুর জ্বর
- NHS (UK) — High temperature (fever) in children
লেখক পরিচিতি
ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন একজন এমবিবিএস চিকিৎসক (কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, ২০১৬) এবং ৩৯তম বিসিএস ক্যাডারের সরকারি চিকিৎসক। তিনি শিশু মেডিসিনে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝিনাইদহে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত।
